Dhaka ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাড়ি ভাড়া না করলে প্যাকেজ বাতিল

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া করার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী মক্কা ও মদিনায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত সব চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য এজেন্সি থেকে মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া করার অগ্রগতি খুবই হতাশাজনক—এমনটি উল্লেখ করে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সরকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এ সময়সীমা কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো এজেন্সি বাড়ি ভাড়ার কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট যতজন হজযাত্রীর আবাসন বাকি থাকবে, ততজনের তাঁবু বরাদ্দ ও সার্ভিস প্যাকেজ বাতিল হয়ে যাবে বলেও জানানো হয়েছে।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পন্নের নির্দেশনার কথা জানিয়ে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সব লিড এজেন্সির স্বত্বাধিকারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অংশীদার ও মোনাজ্জেমদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ঘোষিত সৌদি টাইমলাইন অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। গত ১৫ জানুয়ারি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এক ভার্চুয়াল সভায় জানান, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য আবাসন ভাড়া করার অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো এজেন্সি বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট যতজন হজযাত্রীর আবাসন বাকি থাকবে, ততজনের তাঁবু বরাদ্দ ও সার্ভিস প্যাকেজ বাতিল হয়ে যাবে।

নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৩০টি লিড এজেন্সির মধ্যে মক্কায় মাত্র ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং মদিনায় ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া ১১টি লিড এজেন্সি এখনো মক্কা কিংবা মদিনায় কোনো জায়গায়ই বাড়ি ভাড়া কার্যক্রম শুরু করেনি।

এ অবস্থায় সৌদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবাসন ভাড়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব লিড এজেন্সিকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মক্কা-মদিনার বাড়ি ভাড়া, পরিবহন চুক্তি ও হজযাত্রীর কোরবানিসহ সৌদি পর্বের ব্যয় নির্বাহের জন্য এজেন্সিগুলোর সৌদি আরবের আইবিএএন হিসাবে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মক্কার হজ কাউন্সিলর মো. কামরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘২০২৬ সালের হজে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজ পালনের কথা রয়েছে। তাদের মধ্যে যারা সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করবেন তাদের বাড়ি ভাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে হাজিদের বাড়ি ভাড়ার কাজ চলমান রয়েছে।’ আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

Author

ট্যাগ :
.copy_right_section { display: none; }

১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাড়ি ভাড়া না করলে প্যাকেজ বাতিল

আপডেটের সময়: ০২:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া করার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী মক্কা ও মদিনায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত সব চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য এজেন্সি থেকে মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া করার অগ্রগতি খুবই হতাশাজনক—এমনটি উল্লেখ করে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সরকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এ সময়সীমা কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো এজেন্সি বাড়ি ভাড়ার কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট যতজন হজযাত্রীর আবাসন বাকি থাকবে, ততজনের তাঁবু বরাদ্দ ও সার্ভিস প্যাকেজ বাতিল হয়ে যাবে বলেও জানানো হয়েছে।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পন্নের নির্দেশনার কথা জানিয়ে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সব লিড এজেন্সির স্বত্বাধিকারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অংশীদার ও মোনাজ্জেমদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ঘোষিত সৌদি টাইমলাইন অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। গত ১৫ জানুয়ারি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এক ভার্চুয়াল সভায় জানান, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য আবাসন ভাড়া করার অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো এজেন্সি বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট যতজন হজযাত্রীর আবাসন বাকি থাকবে, ততজনের তাঁবু বরাদ্দ ও সার্ভিস প্যাকেজ বাতিল হয়ে যাবে।

নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৩০টি লিড এজেন্সির মধ্যে মক্কায় মাত্র ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং মদিনায় ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া ১১টি লিড এজেন্সি এখনো মক্কা কিংবা মদিনায় কোনো জায়গায়ই বাড়ি ভাড়া কার্যক্রম শুরু করেনি।

এ অবস্থায় সৌদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবাসন ভাড়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব লিড এজেন্সিকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মক্কা-মদিনার বাড়ি ভাড়া, পরিবহন চুক্তি ও হজযাত্রীর কোরবানিসহ সৌদি পর্বের ব্যয় নির্বাহের জন্য এজেন্সিগুলোর সৌদি আরবের আইবিএএন হিসাবে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মক্কার হজ কাউন্সিলর মো. কামরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘২০২৬ সালের হজে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজ পালনের কথা রয়েছে। তাদের মধ্যে যারা সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করবেন তাদের বাড়ি ভাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে হাজিদের বাড়ি ভাড়ার কাজ চলমান রয়েছে।’ আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

Author