Dhaka ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে ‘গরুচোর’ হিসেবে পরিচিত জসিম: একাধিক মামলা, অভিযোগের পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে

  • এ.কে.অলক
  • আপডেটের সময়: ০৮:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১৫ নিউজ ভিউ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের লামুয়া গ্রামের বাসিন্দা মনির মিয়ার ছেলে জসিম মিয়াকে ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ‘গরুচোর জসিম’ নামেই বেশি পরিচিত।

থানা সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, জসিম মিয়া মোট ১৪টি মামলার আসামি। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল থানায় ১১টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে এফআইআর নং-১৭, ৩/ ৩০, ৩/১৪১, ৩০/৫৯, ১৮/২৪১, ৯/১৮৭, ৩০/২৬১। এছাড়া কমলগঞ্জ থানায় ১টি (এফআইআর নং-০২), বড়লেখা থানায় ১টি (এফআইআর নং-৯/১৫৯) এবং কোতয়ালী মডেল থানায় ১টি (এফআইআর নং-১৫) মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব মামলার বেশিরভাগই বর্তমানে বিচারাধীন।
অভিযোগ রয়েছে, গরু চুরির পাশাপাশি জসিম মিয়া মাদক ব্যবসা, বিশেষ করে ইয়াবা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে টিলা কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের বেলাতেই ট্রাকভর্তি করে মাইজদীহি পাহাড়ের টিলা থেকে মাটি উত্তোলন করা হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
আরও অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ২০২৫ সালের ২০ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চোরাই গরু বহনের সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে একটি পিকআপ ভ্যান দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। এ সময় শ্রীমঙ্গল থানার এক এসআই ও এক এএসআইসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য অভিযান পরিচালনা করলেও অভিযুক্তদের আটক করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনাটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছিল, যা ভিডিও ফুটেজেও স্পষ্ট।
তবে ওই ঘটনার পর কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—এত অভিযোগ ও একাধিক মামলার পরও কীভাবে জসিম মিয়া প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন? এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। অনেকেই অভিযোগ করেন, ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না; কেউ কথা বললে বিভিন্নভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

Author

ট্যাগ :
.copy_right_section { display: none; }

শ্রীমঙ্গলে ‘গরুচোর’ হিসেবে পরিচিত জসিম: একাধিক মামলা, অভিযোগের পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে

আপডেটের সময়: ০৮:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের লামুয়া গ্রামের বাসিন্দা মনির মিয়ার ছেলে জসিম মিয়াকে ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ‘গরুচোর জসিম’ নামেই বেশি পরিচিত।

থানা সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, জসিম মিয়া মোট ১৪টি মামলার আসামি। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল থানায় ১১টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে এফআইআর নং-১৭, ৩/ ৩০, ৩/১৪১, ৩০/৫৯, ১৮/২৪১, ৯/১৮৭, ৩০/২৬১। এছাড়া কমলগঞ্জ থানায় ১টি (এফআইআর নং-০২), বড়লেখা থানায় ১টি (এফআইআর নং-৯/১৫৯) এবং কোতয়ালী মডেল থানায় ১টি (এফআইআর নং-১৫) মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব মামলার বেশিরভাগই বর্তমানে বিচারাধীন।
অভিযোগ রয়েছে, গরু চুরির পাশাপাশি জসিম মিয়া মাদক ব্যবসা, বিশেষ করে ইয়াবা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে টিলা কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের বেলাতেই ট্রাকভর্তি করে মাইজদীহি পাহাড়ের টিলা থেকে মাটি উত্তোলন করা হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
আরও অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ২০২৫ সালের ২০ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চোরাই গরু বহনের সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে একটি পিকআপ ভ্যান দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। এ সময় শ্রীমঙ্গল থানার এক এসআই ও এক এএসআইসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য অভিযান পরিচালনা করলেও অভিযুক্তদের আটক করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনাটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছিল, যা ভিডিও ফুটেজেও স্পষ্ট।
তবে ওই ঘটনার পর কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—এত অভিযোগ ও একাধিক মামলার পরও কীভাবে জসিম মিয়া প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন? এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। অনেকেই অভিযোগ করেন, ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না; কেউ কথা বললে বিভিন্নভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

Author