বিশ্বে বর্তমানে প্রায় সাত হাজারের বেশি প্রচলিত ভাষার মধ্যে বহুল ব্যবহৃত ভাষার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপে সিলেটি ভাষার অবস্থান ৯৭তম। এ তথ্য তুলে ধরে মৌলভীবাজারে ভাষাসৈনিক বদরুজ্জামানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১ মার্চ) বেলা আড়াইটায় মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরির সৈয়দ মুজতবা আলী মিলনায়তনে ভাষাসৈনিক বদরুজ্জামান পর্ষদ ও তমদ্দুন মজলিশ মৌলভীবাজার জেলা শাখার যৌথ আয়োজনে স্মরণসভায় তমদ্দুন মজলিশের জেলা সভাপতি ও পর্ষদের উপদেষ্টা, লেখক-গবেষক সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সাদিক আহমদ।
তমদ্দুন মজলিশ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খিজির মুহাম্মদ জুলফিকার এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আব্দুল ওদুদ, সাংবাদিক নুরুল ইসলাম সেফুল, নাট্যকার খালেদ চৌধুরী, কালেক্টেড স্কুল এন্ড কলেজ মৌলভীবাজারের প্রিন্সিপাল রফি উদ্দিন, আল ইসলাহ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিদ্দিকী।
এসময় হাওর রক্ষা আন্দোলন এর সদস্য সচিব খছরু চৌধুরী, অ্যাডভোকেট বদরুল ইসলাম, তাছনিম চৌধুরী বীথি, শিক্ষাবিদ বাবুল খান, শিক্ষাবিদ মুজিবুর রহমান, শিক্ষাবিদ মুর্শেদ মুন্না, শিক্ষক সমিতি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি খায়রুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক জহির খান, দেওয়ান মোনাকিব চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
স্মরণসভায় বক্তারা মাতৃভাষা ও আঞ্চলিক ভাষা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক বাংলাভাষা আন্দোলনে বদরুজ্জামান সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সে সময় তিনি এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাকিস্তান সরকারের উর্দুকে একক রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। তবে জীবদ্দশায় কখনও নিজেকে ভাষাসৈনিক পরিচয়ে প্রচার করেননি বা কোনো স্বীকৃতি দাবি করেননি তিনি।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মিরপুর গ্রামের কৃতিসন্তান ভাষাসৈনিক বদরুজ্জামান পেশায় ছিলেন কৃষিবিদ ও সরকারি কৃষি কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ছুটই মিয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন। ২০২২ সালে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। বক্তারা বলেন, সকল ভাষাসৈনিকদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু তার বক্তব্যে বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল জাতিসত্তা রক্ষার সংগ্রাম। তিনি উল্লেখ করেন, সিলেটি ভাষা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হলেও এর ইতিহাস, গবেষণা ও প্রামাণ্য দলিল সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মকে স্থানীয় ভাষা ও বাংলাভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা ও স্মরণসভা শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত এবং ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়।










