মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার প্যারাগন গ্রুপের হাজীনগর চা বাগানে জেনারেটার না থানায় হাজার হাজার টন চা পাতা নষ্ট হওয়াতে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব আর বাগান মালিক দেখছে ক্ষতির মুখ। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে জেনারেটার রুম তৈরী করতে একটি টিলার কিছু অংশ আর গাছ কাটায় মামলা ফেঁসে গিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। মামলার ঘটনায় ফুসে উঠেছে বাগান চা শ্রমিকরা।
জানা যায়, চা বাগানে বিদ্যুৎ স্বল্পতা থাকায় অনেক চা পাতা নষ্ট হয়ে যায়। চায়ের উৎপাদন বাড়াতে বাগান কর্তৃপক্ষ ও চা শ্রমিকরা বাগান মালিকের সাথে আলাপ করে বিদুৎ সংকট কাটানোর জন্য বড় একটি জেনারেটর বাগানে বসানোর জন্য সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমান জেনারেটরের পিছনে পুরাতন ঘর ভেংগে ৫ শ’ কেবি নতুন জেনারেটর বসার কাজ চলছিলো। হঠাৎ প্রশাসন এসে কাজ বন্ধ করে দেয়,এবং বাগান ব্যবস্থাপক সহ দু জনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়।
বাগান কর্তৃপক্ষ সুত্র জানা যায়, হাজীনগর চা বাগানের পঞ্চায়তে সভাপতি মোশারাফ হোসেন বিভিন্ন সময়য়ে বাগানের জায়গা দখল করে অন্য শ্রমিকদের কাছে বিক্রি করে দিতেন। কিছু দিন আগে মোশারাফ হোসেন বাগানের জায়গার উপর একটি বড় দোকান ঘর নির্মাণ করেন বাগান কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে।
এই বিষয়ে হাজী নগর চা বাগন ব্যবস্থাপক মো: সহিদুল ইসলাম ১০ ডিসেম্বর মোশারাফ হোসেনকে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ বন্ধ করা প্রসঙ্গে একটি নোর্টিশ দেন। অবগত করা হয় উপ পরিচালক শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল ও অফিসার ইনর্চাজ রাজনগর থানাকে। মোশারাফ হোসেনকে এই নোটিস দেবার পরপরই প্রশাসনের কর্মকতারা এসেই বাগানের জেনারেটর বসানোর কাজ বন্ধ করে দেয়।
এদিকে বাগানের পাহাদার জমির মিয়া, শ্রমিক সর্দার গফুর মিয়া বলছেন, বাগানের মালিক পক্ষকে আমরা বলেছি বিদুৎ এর জন্য আমাদের অনেক চা পাতা নষ্ট হয়ে যায়। এখানে হাজীনগর, রাহমানিয়া, ফতেভাগ, রাহুমন ৪ টি বাগানের পাতা ফ্যাক্টরীতে আসে। বড় একটা জেনারেটর বসালে বিদুৎ এর জন্য চা পাতা আর নষ্ট হবেনা, মালিক লাভমান হবে। সরকার একটু বেশি রাজস্ব পাবে। আর আমরা চা শ্রমিকরা বাড়তি মুজুরি পেয়ে আমাদের সংসার আরো ভালো ভাবে চলবে। আমাদের বাগানে টিলা বা পাহাড় কাটা হচ্ছে না।
এটা একটা মিথ্যা মামলা দিয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ জোহরা আমাদের এই বাগানে পরিদর্শনে আসেন। আমার উনার সাথে কথা বলতে চাইলে উনি আমাদের কোন কথা না শুনে চলে যান। তিনি বলেন, তোমরা বাগানি তোমাদের কথা কি শুনবো। আমরা বাগানি বলে কি মানুষ না?। আমাদের শেষ কথা মিথ্যা মামলায় আমাদের বাগানের কোন ক্ষতি হবে আর এই ক্ষতির কারনে আমাদের পেটে লাথি পড়ে তাহলে আমরা ঘরে বসে থাকবো না আমরা অন্দোলনে এগিয়ে যাবো।
হাজীনগর চা বাগানের পঞ্চায়তে সভাপতি মোশারাফ হোসেন বলেন আমি সরকারি কাজে কোন বাধা দেই নি এটা সম্পুন্ন মিথ্যা।এক বছর আগে আমি দোকান এর জন্য আবেদন করেছি। বাগানের ম্যানেজার আমার আবেদন টা রাখে নি। এই বছর আমি কোন আবেদন করিনি বাগানের ম্যানেজার ব্যাবস্থা পকের কাছে। চা ঘরের সামনে নতুন জেনারেটার এর জন্য কিছু নতুন স্বাপনা তৈরি করা হচ্ছে। আমার নামে মিথ্যা, অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
সহকারী ম্যানেজার আবু সালমান খাঁন বলেন, বাগান ব্যাবস্থাপক বলছেন আমাদের এ বাগান ভ্যাট টেক্সে ২ নাম্বারে আছে। সরকার এই বাগান থেকে ভাল একটা রাজস্ব পায়। বাগানের গুণগত মান খুবই ভালো । আমাদের উৎপাদন আরো বাড়ানোর জন্য পুরাতন জেনারেটর ঘর ভেংঙ্গে নতুন ৫০০ কেবি জেনারেটর বসানোর ব্যবস্থা করছি। আমাদের এখানে কোন পাহাড় বা টিলা কাটা হচ্ছে না। চা বাগানের পঞ্চায়তে নেতা মোশারাফ হোসেনকে আমরা নোটিস দিয়েছি বাগানের বিভিন্ন জায়গা দখল করে স্থাপনা না বানানোর জন্য। এই বিষয়ে উপ পরিচালক শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল ও অফিসার ইনর্চাজ রাজনগর থানাকে বলেছি। সাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ জোহরা বাগানে পরিদর্শনে আসলে আমাদের কোন কথা না শুনে চলে জান। পরে শুনি বদলি হয়ে গেছে,চা বাগানের প্রতি উনার লক্ষ উদেশ্য খারাপ ছিলো। আমাদের চা শ্রমিকদের সাথেও ভালো আচরণ করেননি।
হাজীনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক শহীদুল হক বলেন, বাগান রক্ষা করতে নিরবিচ্ছন্ন ভাবে বিদ্যুৎ রাখার জন্য জেরারেটার রুম করতে চেয়েছি। বিষয়টিকে কিছু স্বার্থন্বেষী বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার কাছে হাজীনগর চা বাগানে জেনারেটর বিষয়ে জানতে চাইলে, মুঠোফোন যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,চা বাগানের ব্যবস্থাপকের উপরে মিথ্যা মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে এখন আপাতত আমার এই বিষয়ে জানা নেই। তবে আমরা শুনলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। প্রয়োজন হলে আমি লোক পাটাব সেখানে।
ব্রেকিং নিউজ :
রাজনগর হাজীনগর চা বাগানের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে বিপাকে কর্তৃপক্ষ: ফুসে উঠেছে বাগান চা শ্রমিকরা
-
মনজু বিজয় চৌধুরী
- আপডেটের সময়: ০৬:৩০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
- ১২২ নিউজ ভিউ
ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর











