Dhaka ০৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে পাহাড় ও টিলা কেটে রিসোর্ট তৈরির অভিযোগ

‘পাহাড়ের বোবা কান্না কে শোনে? চোখের সামনেই তো পাহাড় ও টিলা কেটে আমাদের সবুজ প্রকৃতি ধ্বংস করা হচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশেপাশের এলাকায় পাহাড় ও টিলা কেটে অপরিকল্পিত রিসোর্ট ও স্থাপনা নির্মাণ একটি পরিবেশ-বিধ্বংসী কাজ, যা মূলত এই নির্মাণগুলো প্রায়শই পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। যেখানে প্রকৃতি তার সবটুকু সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে, সেই মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলে হৃদয়ের বুকেই এখন গড়ে উঠছে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে রিসোর্ট, হোটেল, ইকো কটেজ।
মৌলভীবাজার পরিবেশ অতিদপ্তর সূত্রের জানা যায়, শ্রীমঙ্গলের রিসোর্ট,হোটেল,কটেজ ৬০-৬৫ রয়েছে ,বেসরকারি হিসেবে প্রায ৩০০ উপরে রিসোর্ট,হোটেল,কটেজ রয়েছে ।
সরেজমিনে গিয়েও দেখা গেছে একসময় শ্রীমঙ্গলকে বলা হতো নির্জন প্রকৃৃতির আঁধার। শ্রীমঙ্গল পর্যটননগর। পর্যটকরা এ জেলায় আর বেড়াতে আসবে না।
শ্রীমঙ্গলের বিষামনী, মহাজিরাবাদ, রাধারনগর, মির্জাপুর, হোসনাবাদ এলাকাগুলোতে পরিবেশ ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র। ছিল সারি সারি সবুজ পাহাড়-টিলা। আর এসব পাহাড়-টিলার সর্বাঙ্গ জুড়ে ছিল জীব-বৈচিত্র্যের সমাহার। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। সরকারি প্রশাসনে পাহাড়ের এই বোবা কান্না শোনার যেন কেউ নেই। ফলে ঘনঘন ভূ-কম্পন অনুভুত হচ্ছে মৌলভীবাজার জেলায়। এতে যে কোনো সময় পাহাড় ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশংকা বিরাজ করছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার রিসোর্ট,হোটেল,কটেজ এর মালিকগন ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন,পাহাড় ও টিলা অঞ্চলে সুন্দরজ ধরে রাখতে না পারি। তা হলে,এই সুন্দরজ সবকিছু বিনষ্ট হয়ে যাবে। বাহির থেকে এসে রিসোর্ট তৈরি করা হয়। পর্যটকরা বেড়াতে এসে পাহার ঠিলা সৌন্দর্য দেখে,আর যদি এই সৌন্দর্য না থাকে তবে পর্যটকরা আর মৌলভীবাজার জেলার আসবে না।আগামি প্রজন্মরা এই সৌন্দর্য দেখতে পারবে না।
শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক,হাজী মো: কামাল হোসেন বলেন আমি নিজেই একটা রিসোর্ট করছি, সেটা এখন কম্পলিট করতে পারিনি। যারা হোটেল রিসোর্ট করছেন, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ আমরা যাতে পাহাড় না কেটে পরিবেশ দংশ না করি সুন্দর ভাবে পাহাড়ের ভারসাম্য রক্ষা করি।
সৈয়দ শায়েদ আহমদ,সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য বলেন,পাহাড় ও টিলার মধ্যে রিসোর্ট কটেজ হোটেল হচ্ছে,আগামীতে ভবিষ্যতে পরিবেশ বিপর্যয় মধ্যে পরবে। বন্য প্রাণীরা পাহার জংগল থেকে বেরিয়ে আসছে,পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পরবে।পরিবেশ অধিদপ্তর আছে তাদের মধ্যে কোন কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।পাহার টিলার বিভিন্ন রিসোর্ট তৈরি করার অনুমোদন কিভাবে পাচ্ছে।
মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোঃ মাঈদুল ইসলাম বলেন আমরা পাহার টিলা কর্তনের খবর পেলে আমরা সেই জায়গায় গিয়ে পরিদর্শন করি। আমরা প্রতিবেদন তৈরি করে সিলেট বিভাগের কার্যালয়ে প্রেরন করি। সেখানে পরিচালক মহাদয় প্রতিবেদনের তদন্ত করে মামলা ও জরিমানা করেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন পাহাড় কাটার নিধনের একটি কমিটি রয়েছে। প্রতি মাসে এই কমিটির সভা হয়।তার নিয়ম মতন কার্যক্রমে আমরা যে দিকে অভিযোগ পাচ্ছি সেই অভিযোগটা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

 

Author

ট্যাগ :
.copy_right_section { display: none; }

শ্রীমঙ্গলে পাহাড় ও টিলা কেটে রিসোর্ট তৈরির অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০২:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

‘পাহাড়ের বোবা কান্না কে শোনে? চোখের সামনেই তো পাহাড় ও টিলা কেটে আমাদের সবুজ প্রকৃতি ধ্বংস করা হচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশেপাশের এলাকায় পাহাড় ও টিলা কেটে অপরিকল্পিত রিসোর্ট ও স্থাপনা নির্মাণ একটি পরিবেশ-বিধ্বংসী কাজ, যা মূলত এই নির্মাণগুলো প্রায়শই পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। যেখানে প্রকৃতি তার সবটুকু সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে, সেই মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলে হৃদয়ের বুকেই এখন গড়ে উঠছে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে রিসোর্ট, হোটেল, ইকো কটেজ।
মৌলভীবাজার পরিবেশ অতিদপ্তর সূত্রের জানা যায়, শ্রীমঙ্গলের রিসোর্ট,হোটেল,কটেজ ৬০-৬৫ রয়েছে ,বেসরকারি হিসেবে প্রায ৩০০ উপরে রিসোর্ট,হোটেল,কটেজ রয়েছে ।
সরেজমিনে গিয়েও দেখা গেছে একসময় শ্রীমঙ্গলকে বলা হতো নির্জন প্রকৃৃতির আঁধার। শ্রীমঙ্গল পর্যটননগর। পর্যটকরা এ জেলায় আর বেড়াতে আসবে না।
শ্রীমঙ্গলের বিষামনী, মহাজিরাবাদ, রাধারনগর, মির্জাপুর, হোসনাবাদ এলাকাগুলোতে পরিবেশ ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র। ছিল সারি সারি সবুজ পাহাড়-টিলা। আর এসব পাহাড়-টিলার সর্বাঙ্গ জুড়ে ছিল জীব-বৈচিত্র্যের সমাহার। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। সরকারি প্রশাসনে পাহাড়ের এই বোবা কান্না শোনার যেন কেউ নেই। ফলে ঘনঘন ভূ-কম্পন অনুভুত হচ্ছে মৌলভীবাজার জেলায়। এতে যে কোনো সময় পাহাড় ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশংকা বিরাজ করছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার রিসোর্ট,হোটেল,কটেজ এর মালিকগন ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন,পাহাড় ও টিলা অঞ্চলে সুন্দরজ ধরে রাখতে না পারি। তা হলে,এই সুন্দরজ সবকিছু বিনষ্ট হয়ে যাবে। বাহির থেকে এসে রিসোর্ট তৈরি করা হয়। পর্যটকরা বেড়াতে এসে পাহার ঠিলা সৌন্দর্য দেখে,আর যদি এই সৌন্দর্য না থাকে তবে পর্যটকরা আর মৌলভীবাজার জেলার আসবে না।আগামি প্রজন্মরা এই সৌন্দর্য দেখতে পারবে না।
শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক,হাজী মো: কামাল হোসেন বলেন আমি নিজেই একটা রিসোর্ট করছি, সেটা এখন কম্পলিট করতে পারিনি। যারা হোটেল রিসোর্ট করছেন, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ আমরা যাতে পাহাড় না কেটে পরিবেশ দংশ না করি সুন্দর ভাবে পাহাড়ের ভারসাম্য রক্ষা করি।
সৈয়দ শায়েদ আহমদ,সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য বলেন,পাহাড় ও টিলার মধ্যে রিসোর্ট কটেজ হোটেল হচ্ছে,আগামীতে ভবিষ্যতে পরিবেশ বিপর্যয় মধ্যে পরবে। বন্য প্রাণীরা পাহার জংগল থেকে বেরিয়ে আসছে,পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পরবে।পরিবেশ অধিদপ্তর আছে তাদের মধ্যে কোন কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।পাহার টিলার বিভিন্ন রিসোর্ট তৈরি করার অনুমোদন কিভাবে পাচ্ছে।
মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোঃ মাঈদুল ইসলাম বলেন আমরা পাহার টিলা কর্তনের খবর পেলে আমরা সেই জায়গায় গিয়ে পরিদর্শন করি। আমরা প্রতিবেদন তৈরি করে সিলেট বিভাগের কার্যালয়ে প্রেরন করি। সেখানে পরিচালক মহাদয় প্রতিবেদনের তদন্ত করে মামলা ও জরিমানা করেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন পাহাড় কাটার নিধনের একটি কমিটি রয়েছে। প্রতি মাসে এই কমিটির সভা হয়।তার নিয়ম মতন কার্যক্রমে আমরা যে দিকে অভিযোগ পাচ্ছি সেই অভিযোগটা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

 

Author