মৌলভীবাজার জেলার কৃষকদের সাময়িক সমস্যা কাটিয়ে ধানের বাম্পার ফলন হলে কিন্তু সরকারের প্রণোদনার বীজ-সার সহায়তা,কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং মাঠে পরিদর্শনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। তবে ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা সঠিক বাজার মূল্য পেলে লাভবান হবেন।
সরিজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৌলভীবাজারের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শুধু সোনালি ধানের সমাহার। ফলন ভালো হওয়ায় অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটার মহোৎসব। কৃষাণীসহ পরিবারের সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ধান কাটায়, কেউ ঝাড়াই-মাড়াইয়ে ব্যস্ত। অনেক কৃষক অভিযোগ করেন যে তারা কৃষি অফিসের কাছ থেকে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা সেবা পাচ্ছেন না। কৃষকরা বাইরে থেকে সার এবং বীজ বেশী দামে কিনতে হয়। কিছু কিছু ধানে পোকা ধরেছে, জমিতে পানি থাকায় ধান নষ্ট হয়েছে। জেলা ও উপজেলার কৃষকদের কৃষি অফিস নিয়ে,সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অনেক অভিযোগ রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, এ বছর জেলায় চলতি মৌসুমে ব্রি হাইব্রিড-৪, ব্রি হাইব্রিড-৬, তেজ গোল্ড, বিআর ১১, বিআর ২২, বিআর ২৩সহ বিভিন্ন উফশী জাতের ধান প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলন দিয়েছে। জেলার সাত উপজেলায় মোট ৯৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে।
কৃষক মৌলা মিয়া ও ফরিদ মিয়া জানান, আমরা ধানের চারা রোপন করার ও ধান কাটার শুরু হওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে এসে আমাদের ধান কেমন হয়েছে আজ পর্যন্ত দেখিনি। গত বছর যে ধানের মূল্য ছিল এই বছর ধান সরকারি মূল্য ১৫০০-১৬০০ টাকা হলে আমরা কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাব।
মাঠে ধান কাটার সময় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, এ বছর আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে তার ৩ কিয়ারের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি জমিতেও আশানুরূপ ফলন হয়নি। ঋণ করে চাষ করেছিলাম, এখন সেই টাকা ফেরত নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে ।
কৃষি অফিস রেখে লাভ কি যদি কৃষকের কাজে না আসে। এই কৃষি অফিস দিয়ে কি হবে? কৃষি অফিসার শুধু এসি রুমে বসে থাকেন মাঠে এসে কৃষকদের ধান কেমন হয়েছে ভালো না খারাপ সেগুলো তাদের নজর নেই । কৃষি অফিস থেকে মাঝে মধ্যে কৃষকদেরকে নিয়ে মিটিং এ উপস্থিত করে কৃষি অফিসাররা বলেন আপনারা সবকিছুই পাবেন।
রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল আমীন বলেন, এবার আমনের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। হাওর ও উজানজুড়ে প্রায় শতভাগ জমিতে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটেছে।
মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী পরিচালক নীলুফার ইয়াসমীন সুইটি বলেন, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এ বছর বেশি হবে। মৌলভীবাজার জেলায় ৩০% জমিতে ধান কর্তন হয়েছে। এই বছর আবহাওয়া আমাদের অনুকূলে ছিল। পোকামাকড় যেমন কম ছিল, রোগ বালাই কম ছিল। আমাদের কৃষি কর্মকর্তার নম্বর সবার জানা রয়েছে,কৃষকরা মাঠকর্মীদেরকে ফোন করে যদি না যায় মাঠে, তাহলে আমরা অবশ্যই এটার ব্যবস্থা নেব। আমাদের কাছে অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।











