মৌলভীবাজার শহর ঘেঁষা মাতারকাপন এলাকায় “মনু ব্যারেজ” এই ব্যারেজের কয়েক মিটার দূরেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ১ একর জায়গার উপর পর্যটকদের জন্য গড়ে তুলা হয়েছে “ড্রিমস্ শিশু পার্ক” নামে বিনোদনের জায়গা। তবে এই পার্কটি বিভিন্ন জটিলতায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। শুরুর দিকে বৈধভাবে পার্কটি লীজ আনলেও বর্তমানে মামলা জটিলতায় তিন বছর ধরে লিজবিহীন অবস্থায় আছে।
মৌলভীবাজার শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া মনু নদী কুশিয়ারা নদীতে গিয়ে মিশেছে। এই নদীকে ঘিরে মনু নদী প্রকল্প নামে ১৯৮৩ সালে বৃহৎ সেচ ও পানি ব্যাবস্থাপনা বিষয়ক প্রকল্প করা হয়েছে। এখানে যে ব্যারেজ করা হয়েছে এই ব্যারেজকে দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটক আসেন। তবে এখানে ব্যারেজ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিনে অনেক পরিত্যক্ত জায়গা আছে। এসব জায়গার ১ একর জায়গা জুড়ে “ড্রিমস্ শিশু পার্ক” স্থাপন করা হয়েছে। তবে এই পার্কের বৈধতা নিয়ে রয়েছে নানান কথা। এখানে বিনোদনের জন্য পার্ক স্থাপন করা হলেও বাস্তবে বাচ্চাদের কয়েকটি সামগ্রী ছাড়া আর কিছু নেই। চারিদিকে শুধু জঙ্গলে ভরপুর।
সরেজমিনে মনু ব্যারেজে দেখা যায়, ব্যারেজের কয়েক মিটার দূরে “ড্রিমস্ শিশু পার্ক” নামে একটি পার্ক রয়েছে। পার্কের চারিপাশে টিনের ভেড়া রয়েছে। ভেতর বাচ্চাদের জন্য মিউজিক নৌকাসহ কয়েকটি বিনোদন সামগ্রী থাকলেও এগুলো ঝোপজঙ্গলে ভরপুর। পাশে একটি আধাপাকা ঘর রয়েছে যার টিনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর অবস্থায় আছে। বাহির ও ভেতর থেকে ভূতের বাড়ী ছাড়া অন্য কিছু বোঝার উপায় নেই। এছাড়া ভেতরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালে পার্কটি পাঁচ বছর মেয়াদে ইজারা দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইজারাদারদের লোকসান হচ্ছে বলে মামলা করা হয় বলেও জানা গেছে।
ইজারাদারেরা বলছেন তাদের লীজ এখনও বৈধভাবে আছে। তবে এখানে আগত দর্শনার্থীরা দাবী জানান সরকারি ভাবে এই জায়গায় একটি বিনোদনের ব্যাবস্থা করলে মনু ব্যারেজ এলকায় প্রচুর পরিমাণে পর্যটক আসার অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, এই পার্ক বৈধ না অবৈধভাবে চলছে এ বিষয়ে আমরা জানিনা। তবে এখানে সরকারের প্রচুর জায়গা আছে। প্রতিদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্থানীয় অনেক পর্যটক আসেন পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকেও পর্যটক আসেন। তবে এখানে ব্যারেজের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন একটি বিনোদনের জায়গা প্রয়োজন। এতে করে এখানে অনেক পর্যটক আসবেন। এখানে যে পার্ক আছে এটা শুধুমাত্র জায়গা দখল ছাড়া আর কিছু নয়।
ঘুরতে আশা শামসুল নামে এক পর্যটক বলেন, এখানে যে কি পার্ক আছে উঁকি দিয়ে দেখেই বোঝা গেছে এটার যে করুন অবস্থা। ভেতর জঙ্গলে, বাহির থেকে ভয় লাগে। অনেকেই অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হবে এমন পরিবেশ থাকলে। সরকার দায়িত্ব নিয়ে সুন্দর করে পার্ক স্থাপন করুক অথবা যারা লীজ নিয়েছে তাঁরা সুন্দর করে এটা স্থাপন করুক।
তবে পার্কের ছেঁড়া একটি সাইনবোর্ডে লেখা ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করলে ইঞ্জিনিয়ার সুলতান হোসেন নামে একজন বলেন, আমারা লীজ নিয়ে পার্ক স্থাপন করেছি। আমাদের লীজের সময় এখনও আছে। পার্কের দূরাবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমাদের এখানে হামলা করে ভাঙচুর ও সবকিছু লোট করে নেওয়া হয়েছে। এজন্য পার্কের এই অবস্থা।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, ২০২২ সালে এই পার্কের ১ জায়গার লিজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর এটা নিয়ে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে মামলা চলমান। মামলা শেষ হলে নতুন করে আবার লীজ দেওয়া হবে।
ব্রেকিং নিউজ :
সরকারি জায়গায় ভূতের বাড়ী ছাড়া অন্য কিছু বোঝার উপায় নেই : বৈধ না অবৈধভাবে এ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন?
-
মনজু বিজয় চৌধুরী
- আপডেটের সময়: ১১:১৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
- ১২৮ নিউজ ভিউ
ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর







